May 31, 2026, 10:43 am

করোনার মধ্যেও সাড়ে ৩০ শতাংশ বেড়েছে পাট রফতানি

করোনার মধ্যেও সাড়ে ৩০ শতাংশ বেড়েছে পাট রফতানি

লোকসানের দোহাই দিয়ে পাটকল বন্ধে সরকারি সিদ্ধান্তের মধ্যেও বিশ্ববাজারে বাড়ছে বাংলাদেশি পাট ও পাট জাত পণ্যের কদর। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি বেড়েছে ৩০ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, অর্থবছরের প্রথমার্ধে ৬৬ কোটি ৮১ লাখ ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩০ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেশি। লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও রফতানি আয় বেড়েছে ২০ দশমিক ২৯ শতাংশ।

এর আগে গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি করে ৮৮ কোটি ২৩ লাখ ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ, যা ছিল আগের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের চেয়ে ৮ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

ইপিবির পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে ৮ কোটি ৪৯ লাখ ডলারের কাঁচা পাট, ৪৪ কোটি ৯২ লাখ ডলারের পাটের সুতা, ৯ কোটি ১৮ লাখ ডলারের চট ও বস্তা রফতানি হয়েছে। পাটের সুতা রফতানিতে ৪২ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং চট ও বস্তায় ৫৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে বিগত অর্থবছরের তুলনায় কাঁচা পাটের রফতানি কমেছে ৪ শতাংশ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) পণ্য রপ্তানি থেকে বাংলাদেশ ১ হাজার ৯২৩ কোটি ৩৪ লাখ (১৯.২৩ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছে। এই ছয় মাসে লক্ষ্যমাত্রা ধরা ছিল ১ হাজার ৯৬৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে আয় হয়েছিল ১ হাজার ৯৩০ কোটি ২১ লাখ ডলার। সর্বশেষ ডিসেম্বর মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে ৩৩১ কোটি ডলার আয় হয়েছে; লক্ষ্য ছিল ৩৫২ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে আয় হয়েছিল ৩৫২ কোটি ৯১ লাখ ডলার।

ইপিবির তথ্য মতে, জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১ হাজার ৫৫৪ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩ শতাংশ কম। আর লক্ষ্যের চেয়ে কম ৪ দশমিক ১২ শতাংশ। তবে এই ছয় মাসে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় বেড়েছে। মোট আয় এসেছে ৮৫২ কোটি ৬১ লাখ ডলার, প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৯০ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে উভেন পোশাক রপ্তানিতে। জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে এই খাত থেকে আয় হয়েছে ৭০১ কোটি ৯৩ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১০ দশমিক ২২ শতাংশ কম। আর লক্ষ্যের চেয়ে ১৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ কম।

এদিকে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে মহামারীকালে ওষুধ রপ্তানি বেড়েছে ১৭ দশমিক ১৫ শতাংশ। কৃষি পণ্য রপ্তানি বেড়েছে দশমিক ১৮ শতাংশ। হস্তশিল্প পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ৪৮ দশমিক ৭০ শতাংশের বেশি। তবে চামড়া এবং চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি কমেছে ১৭ শতাংশ। স্পেশালাইজড টেক্সটাইল রপ্তানি কমেছে ৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ। হিমায়িত মাছ রপ্তানি কমেছে ৩ দশমিক ৭১ শতাংশ।

করোনাভাইরাস মহামারীর এই সময়ে চলতি অর্থবছরে ৪৮ বিলিয়ন (৪ হাজার ৮০০) মার্কিন ডলারের পণ্য ও সেবা রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে সরকার, যা গত অর্থবছরের রপ্তানি আয়ের চেয়ে ১৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেশি। গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৩ হাজার ৩৬৭ কোটি ৪০ লাখ (৩৩.৬৭ বিলিয়ন) ডলার আয় করে, যা ছিল আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৭ শতাংশ কম। আর লক্ষ্যের চেয়ে আয় কম ছিল ২৬ শতাংশ।

বিজনেস নিউজ/এমআরএম

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com